1. shahinit.mail@gmail.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
পরীক্ষা মূলক
চিত্রকণ্ঠ ডটকম এর পরীক্ষা মূলক প্রকাশ চলছে....

পদোন্নতির সাইড এফেক্ট ও একজন কর্মীর করণীয়

চিত্রকণ্ঠ ডটকম
  • প্রকাশ কাল : মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১
  • ৪৭ পাঠক

পদোন্নতি বা প্রমোশন শুধু স্যালারির উন্নতিই নয়, কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহ এবং অনুপ্রেরণা ও যোগায়। দীর্ঘদিন একই পদে থাকলে যেমন কাজের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হয়, ঠিক তেমনি কাজের মান ও প্রডাক্টিভিটি কমে যায়। তাছাড়া সবচাইতে জরুরি বিষয় হচ্ছে, কর্মীরা হতাশ হয়ে অন্যত্র চাকুরি খুজতে থাকে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে, নিয়মতান্ত্রিক এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের পদোন্নতি দেয়া উচিত। না হলে ভালো কাজ করেও পদোন্নতি না পেলে কর্মীরা আগ্রহ হারাবে।

আমরা বরাবরই বলতে শুনি ওষুধের সাইড এফেক্ট, কিন্তু পদোন্নতির সাইড এফেক্টটা আবার কী? আসুন জেনে নেই এর সাইড এফেক্টগুলো-

প্রমোশন মানেই কাজের রিকগনিশন, স্যালারি বৃদ্ধি, সম্মান, অবস্থার পরিবর্তন। কর্মক্ষেত্রে এবং সোসাইটিতে নিজের মূল্যায়ন, কত কী। সব কিছু একটা আরেকটার সঙ্গে জড়িত। বাই চেইন পরিবর্তনগুলো ঘটে।

এই প্রমোশনের সাইড এফেক্ট কখনো ভালো হয়, আবার কখনো খারাপ হয়, অনেক অপেক্ষা আর দিন রাত পরিশ্রমের পর যখন আপনি প্রমোশন পান, তখন কারো কারো কাজের প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। নতুন কাজ নতুন ডেস্ক সব কিছুর মধ্যে নতুনত্ব থাকার কারণে তার কাজের প্রতি মনোযোগ আরও বেড়ে যায়।

সে আরও ভালো করার জন্য কাজের প্রতি তার ডেডিকেশন আরও বাড়িয়ে দেয়। এই পদোন্নতিকে সে এনজয় করতে থাকে। কাজের প্রতি প্যাশনেট হয়। কিভাবে আরো কাজ করে আবার প্রমোশন পাওয়া যায়, আবার সফল হওয়া যায়। সেই কারণে বিভিন্ন ট্রেনিং ওয়ার্কশপ এবং পড়াশুনার মাধ্যমে নিজের স্কিল ডেভলপ করতে থাকে। এভাবে নিজেকে কোম্পানির জন্য ভ্যালুয়েবল করে তোলে যা একজন ব্যাক্তিকে আরও সাফল্যমন্ডিত করে।

প্রমোশন এর খারাপ কিছু দিকও আছে। সেগুলো হলো- প্রায়ই দেখা যায় প্রমোশন পাওয়ার পর অনেকের মধ্যে এক রকম অহংকারবোধ চলে আসে। ‘যা চাইছি তা পাইসি এখন আর খেটে খুটে কী হবে’ সেখানেই ফুল স্টপ দিয়ে দেয়। এই সব মানুষদের দেখলে মনে হয়, এদের কোনো পরিকল্পনা নাই। সে চাইলে আরও ভালো পর্যায়ে যেতে পারে, এটা নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নাই। এমনকি নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখার জন্য তারা নতুন নতুন কাজ শেখা বা নিজের স্কিল ডেভেলপ করার তেমন একটা চেষ্টাও করে না। ফলে অতি শিগগিরই তারা অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়ে।

প্রমোশনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো একজন কর্মীকে বিভিন্ন টার্গেট বা গাইডলাইন দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রমোশনের পর তার কী কী করা দরকার বা অফিস কলিগদের সঙ্গে তার আচার-আচরণ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে কোনো সুষ্ঠু গাইডলাইন বা দিক নির্দেশনা দেয়া থাকে না। এক্ষেত্রে একজন মানবসম্পদ কর্মকর্তার ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

একজন কর্মী যখন প্রমোশন পায় সে তখন বুঝতে পারে না, সে তার কলিগদের প্রতি কেমন আচরণ করবে কারণ একটা সময়ে সে যার সাথে কাজ করত এখন তার থেকে উপরের পজিশনে কাজ করবে সে কি তার সাথে আগের মতোই আচরণ করবে? যাকে ভাইয়া বা আপু বলতো এখন কি তাকে নাম ধরে ডাকবে? তারা কি তাকে বস বা স্যার ডাকবে? সে তাদের নির্দেশনা দিবে? তাদের প্রতি তার রিঅ্যাকশন কেমন হওয়া উচিত তাদের দিয়ে কিভাবে কাজ করাবে? তারা কি তার কথা শুনবে না শুনলে কি করবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

একজন মানব সম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্ব হচ্ছে প্রোমোটেড এমপ্লয়ীকে শুরু থেকেই গাইড করার ট্রেনিং দেয়া। প্রমোশনের পর কী করা উচিত-

১. প্রথমতো নিজের আচরণের মধ্যে কোনো রকম পরিবর্তন না আনা।
২. সবাইকে এনসিউর করা আমি আগের মানুষটিই আছি তোমাদের মাঝে আমার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
৩. কাজের ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাওয়া।
৪. নিজের অধীনস্থদের বোঝানো আমরা একটা টীম হয়ে কাজ করব।
৫. কারো কাজে ভুল হলে অন্যের সামনে বকা-ঝকা না করে একা ডেকে তার ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া।
৬. হাসি খুশি থাকা অন্যদের কাজে উৎসাহ দেয়া ও সহযোগিতা করা।
৭. আপনার প্রমোশনে অন্য কলিগরা যারা আশাহত হয়েছে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা যে, ‘তোমাদের হবে আমি তোমাদের পাশে আছি।’

এক্ষেত্রে পদোন্নতি যে পেয়েছে তাকে ট্রেনিং দেয়ার পাশাপাশি যাদের পদোন্নতি হয়নি তাদের সাথেও আলাদা করে কথা বলতে হবে, যে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকর্মীর প্রতি তারা যেন অনুগত থাকে এবং তার প্রতি তাদের আচরণ যেন ঠিক থাকে।

লাইক কমেন্ড ও শেয়ার করুণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই পাতার আরো খবর
© All rights reserved © 2021 | Chitra Kantho
Theme Customized BY WooHostBD